৫৪ বছরেও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সদস্য হতে পরিনি : মৃণাল চক্রবর্তী

সিনিয়র সাংবাদিক মৃণাল চক্রবর্তী। দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবন শেষে এখন অবসর জীবন যাপন করছেন। জাতীয় প্রেসক্লাব, সাংবাদিক ইউনিয়নের অফিস ঘুরেই দিন কাটে। বয়স এখন আশির ঘরে। দীর্ঘ এই জীবনে দেখেছেন ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে ভারতবর্ষ স্বাধীন হওয়া, তারপর আন্দোলন সংগ্রামের পথ পেরিয়ে স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধেও অংশ নেন। কালের সাক্ষী এই সাংবাদিক আলাপচারিতায় জানিয়েছেন জীবনের বলা না বলা অনেক কথা। সাক্ষাতকার গ্রহণ করেছেন তাসকিনা ইয়াসমিন।

জন্ম এবং বেড়ে উঠা

১৯৩৭ সালের ৮ ই মে আমার জš§। বাংলায় ২৫ শে বৈশাখ। আমার জš§ চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার ছোট কমলদহ গ্রামের কবিরাজ বাড়িতে। বাবা সুধাংশু বিমল চক্রবর্তী মোক্তার ছিলেন। বাকিরা সবাই কবিরাজ। মা রেণুকা সুন্দরী চক্রবর্তী। নানা-নানীর বাড়ি সাবেক নোয়াখালী ও বর্তমান ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলার ধর্মপুর গ্রামে। ১৯৩৭ সালে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ শুরুর প্রথম দিকে। ৫ ভাই তিন বোন। ভাইদের দিক থেকে আমি তৃতীয়। ভাইবোনদের দিক থেকে চতুর্থ। আমার ঠাকুরদা পন্ডিত নব কুমার চক্রবর্তী, ঠাকুর মা নয়নতারা চক্রবর্তী, দাদু নন্দকুমার চক্রবর্তী ও দিদিমা বগলা সুন্দরী চক্রবর্তী। ১ মামা চন্দ্রমোহন চক্রবর্তী তৎকালীন নোয়াখালী, চট্টগ্রাম এবং কুমিল্লার নামকরা আয়ুর্বেদ চিকিৎসক কবিরাজ ছিলেন। আমার মায়েরা ৭ ভাই ২ বোন ছিলেন।  শীতল, সুকুমার, সন্তোষ, চুন্নী- অন্য মামাদের নাম মনে নেই।

বোনদের মধ্যে মা আর কুনি (মায়ের বোন)। বাবারা ৭ ভাই, এদের মধ্যে বাবাকে পেয়েছি, বাকিদের কাউকে আমি পাইনি। ৩ বোন চারুবালা, সরলা ও জগদীশের মা।

শিক্ষা ও কর্মজীবন

জীবনের প্রথম স্কুলে যাই চট্টগ্রামের মিউনিসিপ্যাল মডেল হাইস্কুলে আনুমানিক ১৯৪৪ এর দিকে। আমি ১৯৫৭ সালে তৎকালীন প্রবেশিকা মানে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় মেধা তালিকায় দশম স্থান অধিকার করি। ১৯৫৯ এ চট্টগ্রাম কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করি। ১৯৬২তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় অনার্স মেধা তালিকায় দ্বিতীয় শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করি। ১৯৬৩ তে বাংলা ভাষাতত্ত্বে এম এ পাস করি। ইতিমধ্যে ১৯৬১ তে দৈনিক আজাদ এ বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার হিসেবে যোগদান করি। মাসিক ২০ টাকা বেতনে। ১৯৬৪ তে দৈনিক পয়গামে যোগদান করি। ১৯৬৬ তে দৈনিক জেহাদ একইসাথে সাপ্তাহিক জনতায় রিপোর্টার হিসেবে যোগদান করি। ১৯৭৪ এ চট্টগ্রাম থেকৈ প্রকাশিত দৈনিক সমাচারের বার্তা সম্পাদক হিসেবে যোগদান করি।

মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সাক্ষী

আমার ইমিডিয়েট ছোট ভাই ২৭ শে মার্চ ১৯৭১ সালের বাড়ি থেকে বেরিয়েছে আজ পর্যন্ত আর ফিরে আসেনি। ভাইবোনদের মধ্যে এখন আমি আর আমার এক বোন জীবিত আছি। বাকিরা সবাই পরপারে। ১৯৭১ এর ২৫শে মার্চ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার সংবাদটি চট্টগামের শুধুমাত্র একটি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এই অপরাধে ২৭শে মার্চ পাকিস্তানি বাহিনী দৈনিক সমাচারের চট্টগ্রামের হাজারীগলিস্থ কেবল সমাচার পত্রিকা কার্যালয় নয়, সমগ্র হাজারী গলি গুঁড়িয়ে দেয়। এরপর আমি চট্টগ্রামে থেকেই মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। কিন্তু সীমান্ত অতিক্রম করিনি। নয়মাস চট্টগ্রামেই ছিলাম। এই অপরাধে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বহু আবেদন নিবেদন করা সত্ত্বেও আমি তালিকাভুক্ত হতে পারিনি। কিন্তু যারা সীমান্ত অতিক্রম করেছে তাদের থেকে যারা দেশের অভ্যন্তরে থেকে যুদ্ধ করেছে তারাই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। সীমান্ত অতিক্রম না করার অপরাধে আমার নিখোঁজ ভাইকেও তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়নি এবং আজ পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা পরিবার হিসেবে স্বীকৃতি পাইনি। ১৯৭২ সালে চট্টগ্রামের আন্দরকিল¬া থেকে প্রকাশিত দৈনিক দেশবাংলার বার্তা সম্পাদক হিসাবে যোগদান করেছি। প্রথম দিকে এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন আবু হেনা। পরবর্তীকালে অ্যাড. আবুল হাশেম। সর্বশেষ আওয়ামীলীগ নেতা আকতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু মিয়া। সংবাদপত্র অ্যানালমেন্ট অর্ডিনেন্স অনুযায়ী এই পত্রিকা বন্ধ হয়ে যায়।

বিয়ের গৌরবময় স্মৃতি

৮ বছর প্রেম করার পর বিয়ে করেছি। সেই আমাকে জানিয়েছিল যে তার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। অনেক ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে তাকে পাই। এই ঘটনায় আমার পরিবার আমাকে ত্যাজ্যপুত্র ঘোষণা করে। অনেক বছর বাড়ি যাইনি। গত ১০ বছর ধরে আমার বৌদি কান্তি চক্রবর্তীর বিশেষ অনুরোধে বাড়ি যাই। এখন এই বৌদিও মারা গেছে। বাড়িতে গেলেও কখনো রাতে থাকিনি। পাশের ভাতিজির বাড়িতে গিয়ে পানি খাই। আমি আমার পারিবারিক সম্পত্তিও নেইনি।

সাংবাদিক হিসেবে…

বঙ্গবন্ধুর সরকার বেকার সাংবাদিকদের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেন। আমাকেও একটি লোভনীয় পদে চাকরি দেয়ার বন্দোবস্ত করলে আমার স্ত্রীর বিরোধিতায় আমি তাতে যোগদান করতে পারিনি। কারণ তার বক্তব্য ছিল – ‘তোমাকে সাংবাদিক হিসেবে বিয়ে করেছি, আমি চাই তুমি আমৃত্যু সাংবাদিক থাকবে।’ অত:পর ১৯৭৬ সালে জনাব সেকেন্দার হায়াত মজুমদারের সম্পাদনায় ঢাকা বাংলাবাজার থেকে দৈনিক সমাচার পুন:প্রকাশিত হলে আমি তাতে নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে যোগদান করি। একইসময়ে আমি আমি সাপ্তাহিক জনতা এবং সাপ্তাহিক স্বদেশ পত্রিকার কলাম লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করি। ১৯৮৭ পর্যন্ত দৈনিক সমাচারে কাজ করার পর দৈনিক জনতায় চীফ সাব এডিটর হিসেবে পরবর্তীকালে বার্তা সম্পাদক পদে যোগদান করি। দৈনিক জনতা থেকে কর্মবিচ্যূতির পর ১৬ মাস বেকার ছিলাম। এই সময়ে আমার স্ত্রী দীপ্তি চক্রবর্তী মারা যান। ১৯৮৯ সালে। পরবর্তীকালে আমি দৈনিক সকালের খবর, দৈনিক গণ জাগরণ, সোনালী বার্তার বার্তা, দৈনিক বর্তমান বাংলা, বাংলার চোখ ও দৈনিক রুপালি দেশ এ কাজ করি। দৈনিক রুপালী দেশ এ আমার ‘আমি গ্রাহু বলছি’ ছদ্মনামে কলামটি নিয়মিত প্রকাশিত হয়।

রাজনীতিতে অংশগ্রহণ…

১৯৪৭ এর কার্জন হলের মিটিং রেডিওতে শুনেছি। আমাদের তখন সে কি উত্তেজনা! ছাত্রজীবনে ১৯৬২ সালে চট্টগ্রাম কলেজে ছাত্র সংসদে নাট্য সম্পাদক নির্বাচিত হই। সেই বছর কলেজের ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি মাহবুবুল আলম তারা ও সাধারণ সম্পাদক শাহেদ আসগর চৌধুরীর একান্ত প্রচেষ্টায় চট্টগ্রাম সর্বপ্রথম শহীদ মিনার স্থাপিত হয়। আমি অবিভক্ত পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের নেতৃস্থানীয় কর্মী ছিলাম এবং কিছুদিন ঢাকা মহানগর ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করি। ছাত্র ইউনিয়নের বিভক্তির পর ১৯৬৫ তে আমি কেবল ছাত্র রাজীনীতি নয় যাবতীয় রাজনৈতিক কর্মকান্ড থেকে অবসর গ্রহণ করি। বর্তমানে আমার আদর্শের নেতা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বর্তমানে তার সুযোগ্য কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জীবনের প্রিয় বন্ধু ও প্রিয় শিক্ষক

প্রথম স্কুল শুরু হয় ওবায়দুল্লাহ পন্ডিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সেখানে ক্লাস থ্রি পর্যন্ত লেখাপড়া করি। নাজিমুদ্দিন তখন আমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু ছিল। সে এখন ব্যবসায়ী। দুটো স্টীল মিলের মালিক। কলেজ জীবনের বেস্ট ফ্রেন্ড – মীর্জা আবুল মনসুর ও বদরুল কামাল, নুরুল ইসলাম বিএসসি(বর্তমানে মন্ত্রী) ও গাজী সালাউদ্দিন। জুনিয়র ফ্রেন্ডদের মধ্যে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, আব্দুল¬াহ আল নোমান।

মিউনিসিপ্যাল মডেল হাইস্কুলে অধ্যাপক অমল ভূষণ নাগ, শাহেদ আসগর চৌধুরী, পরিমল রায়, (জাতীয় ফুটবল দলের ফরোয়ার্ড), মির্জা মনসুর, পঙ্কজ ভট্টাচার্য (পাকিস্তানের সেরা গোল কিপার), মিহির ধর (হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক), আব্দুল্লাহ সিদ্দিকী, ইফতেখার আহমদ চৌধুরী, বিডিআর এর সাবেক মহাপরিচালক ছিল মেজর জেনারেল আনোয়ার হোসেন। কলেজের বান্ধবী ছিল – রীনা রায় কানুনগো, গৌরী চক্রবর্তী  ও মিনতি চৌধুরী। বন্ধুদের মধ্যে আরও ছিল সাবেক সচিব রেজাউল হায়াত, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খালেকুজ্জামান চৌধুরী, যে জিয়াকে সোয়াতে যাওয়ার সময় বাধা দিয়েছিল। এদের সঙ্গে যোগাযোগ আছে বলে নামগুলো মনে আছে।

স্কুলের শিক্ষকদের মধ্যে প্রিয় ছিলেন কলিমুল্লাহ পন্ডিত, রেবতী দেবনাথ, শামসুদ্দীন, আবদার রশীদ, আবু সুফিয়ান, অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ, নুরুল আলম, হাসনা বেগম, অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন। আব্দুস সাত্তার।

পন্ডিত গণেশ ভট্ট্যাচার্য্য, শ্রীনাথ সাহা, হরিলাল সাহা, বীরেন্দ্র চক্রবর্তী, দেবেন্দ্র দাস চৌধুরী, অনাদি ধর- সংস্কৃত শিক্ষক। সংস্কৃত পড়েছি তার জ্বালায়। বিভক্তির রুপ এসেই আমাকে জিজ্ঞেস করত। আমি পারতামই না। উনার ছাতার বাড়ি গায়ে পড়ত। ব্রাক্ষ্মণ সন্তান সংস্কৃত পার না! তিনি আবার বাবার মক্কেল ছিলেন। অনন্ত সে চট্টগ্রাম লুণ্ঠনের নেতা। সূর্যসেনের কাকাত ভাই। উনি দীর্ঘদিন আন্দামানে বন্দী ছিলেন।

৬০ এর দশকের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাচকে বলা হয় উজ্জ্বলতম ব্যাচ। আব্দুল¬াহ আল মামুন, শেখ ফজলুল হক মনি, কাজী জাফর, মোস্তফা জামাল হায়দার, ফেরদৌসী বেগম (পরে রহমান), রামেন্দু মজুমদার, ফেরদৌসী মজুমদার, নার্গিস (নৃত্যশিল্পী), আ ন ম গোলাম মোস্তফা, প্রিয় ক্লাসমেট ছিল আবুল কাশেম ফজলুল হক, মনসুর মুসা ও দিলারা আলো। বাংলার তখন হেড অব ডিপার্টমেন্ট ছিলেন আব্দুল হাই। আমাদের সময়ের সবচেয়ে জাদরেল প্রফেসর ছিলেন ড. আহমেদ শরীফ। এছাড়া ছিলেন নীলিমা ইব্রাহীম, আশুতোষ ভট্টাচার্য্য, চিত্তরঞ্জন বশিষ্ঠ, মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, ড. সনজীদা খাতুন। রবীন্দ্র ঘোষ ঠাকুরতা, ড. দীন মোহাম্মদ এদের মতো অধ্যাপক আর পাব না। শিক্ষকদের কাছ থেকে একটি জিনিস পেয়েছি আমরা। ইংলিশ পড়াতেন কবির চৌধুরী। কবির চৌধুরী বলতেন, ‘তুমি ছাত্র হিসেবে খারাপ হতে পার, মানুষ হিসেবে ভাল হও। ’

অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, আবু হেনা মোস্তফা কামাল, মুনীর চৌধুরী – তাদের আমরা পেয়েছি। মুনীর চৌধুরী ও আনিসুজ্জামানের ব্যাপারে প্রচলিত কথা ছিল যে, রবীন্দ্রনাথের সব লেখা যদি পুড়ে যায় এদের দুজনকে বসিয়ে দিলে হুবহু মুখস্থ বলতে পারবে।

ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন ও পরিবারের অংশগ্রহণ

আমার বাবা ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সৈনিক ছিলেন। চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের দায়িত্বে ছিলেন। মাস্টারদার নেতৃত্বে তারা একদিন চট্টগ্রাম স্বাধীন রেখেছিলেন।

আমার বড় জ্যাঠা কুমুদ ঠাকুর (কুমুদ বিহারী চক্রবর্তী), বাংলার লোকসঙ্গীত শিল্পী ছিলেন। তার প্রায় এক হাজার গান সংগ্রহ করেছি। স্পন্সর পাচ্ছিনা এগুলো বের করার। আমার মহল্লাতে ১৮শ হিন্দু ভোট আছে। সেখানকার ভোট সবসময় একদিকেই পড়ে।

দিলীপ বড়–য়ার বাড়ি আমার বাড়ি একই জায়গায়। একদিন প্রেসক্লাবে দেখা হলো। সে বলল, আমার এলাকার লোক, আমি বললাম, ভুল বললে তুমি আমার এলাকার লোক। হা হা হা।

নিজের জীবনের মূল্যায়ন

সারাজীবন আমি বন্ধু-বান্ধব এবং স্বজনদের অশেষ স্নেহ ও ভালবাসা পেয়েছি। দিয়েছিও উজাড় করে। আমার জীবন নিয়ে আমার বন্ধু আব্দু্ল্লাহ আল মামুন চিত্রনাট্য করতে চেয়েছে রাজী হইনি। পরিচালক আমজাদ হোসেন, ইত্যাদির পরিচালক, উপস্থাপক হানিফ সংকেত চেয়েছে আমি রাজী হইনি। অনেকে ইন্টারভিউ করতে চেয়েছে। কাউকে দেইনি। এবারই তোমার ব্যাপারে প্রথম রাজী হলাম। আমার জš§ এলাকার নামী পরিবারে। এখনও মানুষ সেভাবেই চেনে। কাউকে জিজ্ঞেস করলেই হবে বাড়ির ঠিকানা। সবাই চিনিয়ে দেবে। ফেনীটা পার হয়ে বলতে হবে কুমুদ ঠাকুর এর বাড়ি যাব। সবাই চিনিয়ে দেবে। দীর্ঘদিন চট্টগ্রামে সাংবাদিকতা করেছি। সেখানকার সবাই আমাকে খুবই সম্মান করে। চট্টগ্রাম সাংবাদিক ফোরামের নির্বাচনে – আমাকে দেখিয়ে দিয়ে বলে দাদা যেদিকে ভোট দিতে বলবে আমি সেদিকেই ভোট দিব। এভাবেই সবার কাছ থেকে সম্মান পাই।

আমার শেষ কথা হলো, স্পষ্টবাদীতার জন্য ৫৪ বছর সাংবাদিকতা পেশায় থাকা সত্ত্বেও আমি এখনও জাতীয় প্রেসক্লাবের সদস্য হতে পারিনি। এটাই আমার কষ্ট।