বাংলার ঐতিহ্য এবং রাজনীতি কি ঈর্ষার শিকার

ঈর্ষা, হিংসা অথবা রেষারিষির বিষয়টা এত ভয়াবহ যে যুগ যুগ ধরে এগুলো নিয়ে অনেক গল্প, কাহিনি, উপকথা, লেখা হয়েছে ভবিষ্যত আরো হবে। কিছু কিছু মানুষ আছে যারা আসলেই ঈর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী তারা ঈর্ষার শিকার হয়। কোনো দেশ যদি সমৃদ্ধশালি হয় তাহলে সেই লোভে বড় বড় পরাশক্তিগুলি ছলে বলে কৌশলে তা দখলে রাখতে চায়। যেমন ইরাককে দখল করার জন্য বুশকে কত রকম ছলনার আশ্রয় নিতে হয়েছে। সৃষ্টির সাথে সাথে ঈর্ষার ব্যাপারটিও চলে আসছে। মানুষ যেমন ঈর্ষার শিকার হয় তেমনি একটি প্রাকৃতিক সম্পদে সম্ভাবনাময় দেশও ঈর্ষার শিকার হতে পারে।

আমরা গ্রামে গঞ্জে, যা দেখেছি তাতে ভাইয়ে ভাইয়ে ঈর্ষা, বোনে বোনে ঈর্ষা, মা মেয়ের মধ্যে ঈর্ষা, নেতায় নেতায় ঈর্ষা, গ্রামে গ্রামে ঈর্ষা, প্রতিবেশির সাথে ঈর্ষা, ধর্ম নিয়ে ঈর্ষা, দেশ নিয়ে ঈর্ষা ইত্যাদি বহু রকম ঈর্ষার কথা জানি। এমন কি কেউ দেখতে ভালো হলেও ঈর্ষা। এই সব হিংসা দ্বেষ মাৎসর্য নিয়েই যুগে যুগে নানা যুদ্ধ বিগ্রহ লেগেই ছিল দেশে দেশে। এক রাজার স্ত্রী যদি বেশি সুন্দরী হতেন তাহলে আর একজন প্রতাপশালি রাজা তাকে মেরে সেই সুন্দরী রানীকে নিজের দখলে নিতেন। এটা হল ক্ষমতাধরদের ক্ষমতার আগ্রাসন। কিন্তু যাদের মান মর্যাদা আছে তবু তাদের সম্পদ কারো কাছে তুলে দেবে না বলেই এইসব যুদ্ধগুলো হতো।

রূপকথা উপকথায় দেখেছি এক সুন্দরী রাজকন্যা যার নাম ছিল তুষার কন্যা; তাকে ধ্বংসের জন্য নানা রকম ষড়যন্ত্রের কথাও আমরা জানি। ঈর্ষার কারণেই এত ধ্বংস, এত মৃত্যু, ক্ষমতা দখলের এত বহুমুখী ষড়যন্ত্র সংঘটিত হচ্ছিল। গৃহের আঙিনায় একটি গাছও যদি  লকলক করে একটু তাড়তাড়ি বড় হয়ে যায় তাহলে তাকে ছেটে দিতেও পাড়া প্রতিবেশির উপদেশের অভাব হয় না। গ্রামের বাড়িতে দরিদ্র পরিবারের একটি মেয়ে খুব সুন্দর হয়ে উঠলে অথবা গরীবের ঘরে সুন্দরী বউ থাকলেও পাড়া প্রতিবেশি বড়ভাই মোড়লেরা মাঝে মধ্যে পান সুপারির বিনিময়ে হলেও বাসায় রাতে একটু টোকাটুকি করতেই পারে। গৃহকর্তা যদি এতে বাদ সাধেন তাহলে তার কর্তাগিরি বুঝি আর টেকে না। এটা আমরা মেনেও নেই। উপায় কি গরীবের সংসার! গৃহকর্তার জীবন রক্ষাও কর্তব্য। মান ইজ্জতের থেকে জীবনের দাম বেশি হয়তো বা। শেক্সপীয়ারের ওথেলো, হ্যামলেট, ম্যাকবেথও জুলিয়াস সিজারসহ আরো নানা ঘটনায় দেখতে পাই ঈর্ষার কত রূপ। কত নিরীহ মানুষ, বিষয় এবং দেশ ধ্বংসের সম্মুখীন হয়। অনেক আগে একটা ছবি দেখেছিলাম ছবিটির নাম বেনহার। এত সুন্দর ছবিটি দেখে মুগ্ধ হয়েছিলাম। নায়কের বন্ধুই ছিল খলনায়ক। এমন কোন ষড়যন্ত্র বাকি ছিল না যা সে বেনহারের বিরুদ্ধে করেনি। শেষ পর্যন্ত বেনহারের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত অস্ত্রে নিজেই বিদ্ধ হয়ে মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে মারা গেল। বন্ধু বেনহার তাকে আর বাঁচাতে পারলো না।

ঈর্ষার আরো বহু ঘটনা অ্যারাবিয়ান নাইটসেও আমরা পেয়েছি। ঈর্ষা নিয়ে কৌতুকেরও অভাব নেই। একবার একটা কৌতুক শুনেছিলাম। প্রতিবেশির সাথে হিংসার কৌতুক। একবার এক দৈত্যকে হাসিল করেছিল এক লোক। দৈত্য বলেছে তুমি যা চাইবে তা পাবে, তবে শর্ত হল তোমার প্রতিবেশি তার ডবল পাবে। এইভাবে তুমি সর্বোচ্চ তিনবার চাইতে পারবে।

সে দুইবার চাইল দুইবারই তার প্রতিবেশি ডবল সম্পদের অধিকারি হল। এটা দেখে তার ঈর্ষা বেড়ে গেল। সে এবার বুদ্ধি করে বলল আমার একচোখ কানা করে দাও। এতে প্রতিবেশির দুই চোখ অন্ধ হবে বলে তার মনে হল। এই হল প্রতিবেশির প্রতি মানুষের হিংসার রূপ।

ছোটবেলা আমরা কিশোরদের জন্য প্রকাশিত ম্যাগাজিন ধান শালিখের দেশ পড়তাম। তখন মনে হয় অনেকদিন ধরে ভিয়েতনামে যুদ্ধ চলছিল। ভিয়েতনামিরা একটি ছবিসহ উক্তি দিয়েছিল। সেটা হল: জান দেব তবু দেশ দেব না: ভিয়েতনাম। এই বাক্যটি বড় করে লেখা থাকতো আর মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা একে ঘুরিয়ে বলতাম: জান দেব তবু দেশ দেব না: বাংলাদেশ। তখন ভাষার তাৎপর্য না বুঝলেও বুঝতাম কোনো কিছুর বিনিময়েই বাংলাদেশের উপর কারো অধিকার দেওয়া যায় না। জান দিয়ে দেওয়া যায় কিন্তু বাংলাদেশ দেওয়া যায় না। এটাই আমাদের বাবা মা এবং খালা চাচারা বুঝিয়েছিলেন। বুঝিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুর ডাকে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ করতে হবে। এমন কি আব্বা ঐ শিশুবয়সেই আমাদের একধরনের গেরিলাযুদ্ধের ট্রেনিং দিয়েছিলেন। এটি হল আমাদের মত বয়সের প্রতিটি মানুষের আত্মরক্ষার এবং দেশরক্ষার প্রাথমিক মূলমন্ত্র।

ভারত আমাদের প্রতিবেশি রাষ্ট্র, বলতে গেলে তিনদিকেই আমরা ভারত কর্তৃক পরিবেষ্টিত। ভৌগোলিক এ বিষয়টি দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে অতীতে মুক্তিযুদ্ধে তাদের সহযোগিতা আমাদের মুক্তিসংগ্রামকে এগিয়ে নিয়েছে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী ছিলেন অসাধারণ দূরদর্শী এবং নিজ দেশের জন্য বিচক্ষণ রাজনীতিবিদ। তাঁর সাথে আমাদের বঙ্গবন্ধুর ছিল অপরিসীম শ্রদ্ধার সম্পর্ক যে কারণে ইন্দিরা গান্ধী বালাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সার্বিক সহযোগিতা করেছিলেন। আমাদের বঙ্গবন্ধুও নেই আর ইন্ডিয়ার তৎকালীন স্নেহকাতর ইন্দিরা গান্ধীও নেই, সেই অপরিসীম ভালবাসার সম্পর্ক হয়তো সেইভাবে নেই। এখন যা আছে তা হল বৃহত্তর শক্তিশালি দেশগুলোর অর্থনীতিকে আরো মজবুত করার জন্য অন্যের ঘাড়ে কাঁঠাল ভেঙে খাওয়ার অপচেষ্টা। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে এসব বিষয় আছে। ভারতকেও আমরা সুবিধা কম দিচ্ছি না। বড় মাছ ছোট মাছগুলিকে খেয়ে ফেলে এটাই নিয়ম। কিন্তু তারপরেও আমাদেরকে নিজেদের বুদ্ধি  কৌশলের মাধ্যমে আত্মরক্ষা করতে হবে। তা জনগণকে সাথে নিয়েই করলে ভাল হবে। আমাদের ম্যাপ বা মানচিত্র হল আমাদের সম্পদ। একে খুব ভাল করে চিনতে হবে। এর প্রতিটি ইঞ্চি আমাদের রক্ত দিয়ে কেনা। এই ভূমির সার্বভৌমত্ব, নিজস্ব সংস্কৃতি, এর সুস্থিতি রক্ষায় বাঙালি এবং বাঙলা ভাষাকে বারবার রুখে দাঁড়াতে হয়েছে। সব কিছুই আমাদের অমূল্য সম্পদ। এর ধান, পাট, মাটি, পানি, মাছ , মধু,  বিচিত্র পাখপাখালি বন বনানী, জীববৈচিত্র ,গ্যাসসহ সব কিছুই আমাদের সম্পদ। এর তিন দিকে ভারত একদিকে বঙ্গোপসাগর। বঙ্গোপসাগরকে বুকে নিয়ে আমাদের বসবাস। বড়ই ভয়াবহতার মধ্যে আমরা জীবনমৃত্যু হাতে নিয়ে বসবাস করি। কত অসংখ্য জেলে প্রতিবছর সমুদ্রে হারিয়ে যায়। সমুদ্র উঠে আসে আমাদের ঘরের দরজায়। তাই নিয়ে বেঁচে থাকি।

এদেশের এক কোনে আছে আমাদের বিশাল বনজ সম্পদ। পৃথিবীতে এই সুন্দরবন সবচেয়ে সেরা সুন্দরবনের জন্য বাংলাদেশ বিখ্যাত। তবে আমাদের দুর্ভাগ্য যে  বাংলাদেশে এখন আর সেরা কিছু নেই, অমূল্য প্রাকৃতিক সব সম্পদই হারাতে বসেছে। এদেশের বালাম চাউল এখন আর এদেশের মানুষ দেখতে পায় না। শীতলক্ষার পানি যা দিয়ে এক সময় কলকাতায় শিশুদের জন্য গ্রাইপ ওয়াটার প্রস্তুত করা হত। এদেশের রেশম শিল্পও বিলুপ্তির পথে। মসলিনও বিলুপ্ত। জামদানি নিয়ে অনেক রকম ষড়যন্ত্র হয়েছ কিন্তু  এখানের নদীর পানির বিশেষত্বের কারণে অন্যরা একে পুরো গ্রাস করতে পারেনি। তাই এদেশের জনগণ এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পৃষ্ঠপোষকতায় এই শিল্পটি বেঁচে আছে। আমরা যখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ শাড়ি জামদানি পড়তে দেখি তখন খুব ভাললাগায় মনটি ভরে যায়। বাঙালির ঐতিহ্যের সর্বশ্রেষ্ঠ উপহারটি তো একমাত্র তাঁরই পাওনা। আমরা বঙ্গবন্ধুকে হারিয়ে একবার নিঃস্ব হয়েছি; একুশে আগস্টের ষড়যন্ত্র থেকে কী ভাবে মহান আল্লাহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রক্ষা করেছেন তা আমরা জানি। একুশে আগস্টের অসংখ্য মৃত্যুর যন্ত্রণাকাতরতার সময়ে শেখ হাসিনার একটি ছবি আছে, তাঁর সে ছবিটিতে তিনি মুখটি উপরে তুলে ধরে যেন আল্লার কাছে এর বিচার চেয়েছিলেন। আল্লাহ তাঁর সেদিনের সে ফরিয়াদ শুনেছে। আমরা এখন তাঁকে বারবার প্রধানমন্ত্রীরূপে দেখছি।  তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছেন, জাতির সে কলঙ্কজনক অধ্যায়ও প্রায় শেষ হয়েছে। এমন কি  সেই পাঁচ মে তারিখে  হেফাজতে ইসলামীদেরকে কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছেন সেটাও আমরা দেখেছি। জঙ্গী হামলার শিকড় উৎপাটনের চেষ্টাও তাঁর শাসনের উজ্জ্বল মাইলফলক। এছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থাও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কথা তো আছেই।

এইজন্যই তিনি যেমন জাতির পিতার নয়নমনি তাই তিনিও বাংলার নয়নমনি। তাইতো বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ উপহারটি বাঙালিরা তাঁকেই উৎসর্গ করে ধন্য হয়। একবার একজন কাঠের খোদাই শিল্পী তাঁকে তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠকর্ম একখানা সিংহাসনের মত চেয়ার তাঁকে উপহার দিয়েছিল, যা দেখে আমাদের ভাল লেগেছে। সাড়ে তিনকেজি ওজনের সবচেয়ে বড় ইলিশ মাছটিও তিনিই উপহার পেয়েছেন। বাংলাদেশের নারীদের ক্ষমতায়নের সর্বোচ্চ জায়গায় তিনি নারীদেরকে বসিয়েছেন। এসব হল অভাবনীয় অকল্পনীয় কাজ। যা একমাত্র বঙ্গবন্ধুর নয়নমনির পক্ষেই করা সম্ভব।

সুন্দরবন আমাদের শ্রেষ্ঠতম সম্পদ। এর রয়েল  বেঙ্গল টাইগার, আমাদের ইলিশ, সুন্দরবনের কাঠ, এর মধু,  এসব কিছুকে আমরা ভালবাসি। আমাদের নদীনালা খালবিল  আমাদের চিরচেনা আলো বাতাস যা সবুজ সুন্দর শ্যামলিমার কারণে সমৃদ্ধ সব কিছুকে ভালবাসি। ভালবাসা অন্যায় নয়। দেশকে ভালবাসাই বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা। আমরা বাংলাদেশকে ভালবাসি। আমাদের ঘরে ঘরে আছে মুক্তিযোদ্ধাদের বুকের রক্তের ঋণ। সবচেয়ে বড় কথা হল আমাদের বঙ্গবন্ধু শিখিয়েছেন ভালবাসার জন্য কেমন করে লড়াই করতে হয়। এখন আমাদের প্রাণপ্রিয় বঙ্গবন্ধুর প্রাণপ্রিয় কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীই আমাদের সকল ভালবাসার মূলশক্তি।

তিনি এ দেশকে ভালবাসেন বলেই বাংলাদেশের এত রকম অভূতপূর্ব  উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে। খেয়ে পড়ে ভাল আছে। দশ টাকা কেজি চাউল তিনিই দিতে পারছেন। যদিও এখন চালের দাম অনেক বেড়েছে। আর আমরা যারা চাকরি করি তারা প্রত্যেকেই  মাস গেলে লাখপতি। প্রশাসনের অনেক বড় বড় কর্মকর্তারা  অফিস থেকে গাড়ি পান বা না পান ত্রিশ লক্ষ টাকা সরকার থেকে গাড়ি কেনার জন্য লোন পাচ্ছেন গাড়ি কেনার পরে তার মেইনটেন্সের বাবদ টাকাও পাচ্ছেন। অনেক অফিসারই এইসব সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন (শুধু শিক্ষকরা ছাড়া। শিক্ষকদের বিষয়ে যদিও প্রধানমন্ত্রী অনেক উঁচু ধারনা পোষণ করেন। তিনি একসময়ে বলেছেন “শিক্ষকরাই এদেশের সোনার মানুষ এবং তারা সোনার মানুষ বানাবে।”) এটি বাংলাদেশের এই আমল না হলে কখনও সম্ভব হতো না।

মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য তিনি যা করেছেন তা অন্য কেউ করেননি। তাদের সন্তানদের চাকরি এবং তাদের জন্য  সম্মানির ব্যবস্থা করেছেন, এতে মুক্তিযোদ্ধারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ। এই আমলেই মানুষ ভালভাবে দুটো ভালমন্দ খেতে পারছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন মানুষ এ সময়ে কিছু না কিছু পাচ্ছে কেউ অনাহারে থাকছে না। এটা দেশের অর্থনৈতিক বিপ্লব। অর্থনীতির জ্ঞান না থাকলেও এটুকু বুঝি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের একে একে সবই দেন কিন্তু মাঝে মাঝে একটু টীকা টিপ্পনি কেটে নেন। কারণ তিনি তো আমাদের একান্ত আপন। আর কোনো রাষ্ট্র প্রধান তো এত আপন ছিলেন না। তিনি আমাদের সাথে সরল মনে কথা বলবেন না তো কে বলবেন?

এই যেমন ধরেন বেতনের ব্যাপার। তিনি বললেন ঠিক আছে বেশি হলে কেটে নেব। আবার বললেন বিদ্যুৎ ভালভাবে পাচ্ছেন বলে লোডশেডিং এর কষ্ট ভুলে যাচ্ছেন। এই রকম সরল সহজ কথা একমাত্র বঙ্গবন্ধুর কন্যাই বলতে পারেন। এক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর কথা মনে পড়ে।একবার এডহক শিক্ষকরা বেতনের রেগুলারাইজ করতে বঙ্গবন্ধুর কাছে আবেদন জানালেন। বঙ্গবন্ধুর এমন সহজ সরল কথা যে তিনি শিক্ষামন্ত্রীকে ডেকে বললেন যত এডহক শিক্ষক আছে তাদের সবার এড কাইটটা হক করে নাও। এই রকম কথা একমাত্র বঙ্গবন্ধুই বলতে পারেন। আমরা ভুলে যাইনি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘড়ির কাটা এক ঘণ্টা এগিয়ে দিয়ে একটি অভূতপূর্ব কর্মসূচি নিয়েছিলেন। কিন্তু বিদ্যুতের সমস্যা মোটামুটি কমে যাওয়াতে আর পিছন ফিরতে হচ্ছে না।

আমরা দেখেছি তিনি সব দিয়েই যাচ্ছেন।যেমন অনেক বিরোধিতার পরেও তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের স্বার্থে বিষয়টি নিজ হাতে করেছেন। চাকরিজীবীদের বেতন অনেক দিয়েছেন। এক টাকাও কমাননি। বেতন কমিশন সিলেকশন গ্রেড বাদ দিয়েছে,  সেটাও নাকি আবার বহালের চিন্তা চলছে। জনগণের স্বার্থ রক্ষায় তিনি আজকেই সব না করলেও আগামীকাল সব দেন। এতে বোঝা যায় যে তিনি চান বাংলার জনগণ তাঁর কাছে ভাল করে দাবী তুলুক। তিনি তাহলে সেটা করবেন। দাবীর মুখে কাজ করার একটা আনন্দ আছে। না কাঁদলে মাও দুধ দেন না। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় মা। তিনি বাঙালির দাদী,   বোন সব। এদেশের প্রতিটি ভালমন্দের সাথে তাঁর সচেতনতা আছে থাকবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সব সময়ই তাঁর মনে জাগরুক।

বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে সাফল্যের জন্য ডিজিটাল বাংলাদেশের তরুণেরা স্বপ্ন দেখছে। আমরা ঘরে বসে এখন সুন্দরবন দেখতে পাই। সারা বিশ্বে বাংলাদেশের সাফল্যের জয়গান শুনতে পাই। এমন কি বারাক ওবামা পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রশংসা করেন। বাংলাদেশ এখন সারা বিশ্বে রোলমডেল। অবাক বিশ্ব অবাক তাকিয়ে রয়। আমাদের বঙ্গবন্ধুর নাম পৃথিবী জুড়ে মানুষ সাফল্যের জয়গাঁথা হিসেবে দেখে। আমাদের বঙ্গবন্ধুর কন্যাকেও আল্লাহ বাংলাদেশেল কল্যাণের জন্যই ক্ষমতায় এনেছেন। তাঁর সিদ্ধান্তের কোনো তুলনা নেই। দেশের মানুষের কল্যাণের জন্যই তিনি সমস্ত রকমের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন। তবু কিছু মানুষ আছে যাঁরা বাংলাদেশের বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ তারা তাদের জ্ঞান বুদ্ধির আলোকিত ব্যাখ্যায় সিদ্ধান্তে যেসব বিষয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন তা তো এদেশকে ভালবেসেই করছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বলিষ্ঠতা অসাধারণ। তিনি বাংলাদেশ বিষয়ে ভাবেন এদেশে তিনি তাঁর পুরো পরিবারকে হারিয়েছেন। তবে বঙ্গবন্ধু যেদিন জাতির পিতা হয়েছেন সেদিন থেকে জাতির পিতার পরিবার সারা বাঙালি জাতির পরিবার। বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে যেদিন নৃশংসভাবে হত্যা করা হল সেদিন বাঙালি তাদের আপন পরিবারকে হারিয়েছে।

খেলাধুলার দিক থেকে আমরা অনেক এগিয়ে আছি। আমাদের প্রধানমন্ত্রীও খেলোয়ারদের দিকে নিজে বিশেষভাবে নজর দেন, খেয়াল রাখেন। আমাদের খেলা এখন বিশ্বজোড়া সম্মান বয়ে এনেছে। তিনি খেলোয়ারদের উজ্জীবিত করেন বলেই খেলায় আজ বাংলাদেশ সেরা। বিভিন্ন সময়ে ক্রিকেট খেলায় ভারতের সাথে জিতে গেলে আমরা বলি রয়েল বেঙ্গল টাইগার অব সুন্দরবন। বাংলাদেশ বাঘের দেশ। বাংলাদেশের জাতীয় পশু বাংলাদেশের সোনার ছেলেদের বীরত্বের প্রতীক এই রয়েল বেঙ্গল টাইগার। এক সময় অবিভক্ত বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী আবুল কাশেম ফজলুল হককে সবাই তাঁর শৌর্য বীর্য এবং সাহসের জন্য নাম দিয়েছিল শেরে বাংলা। মানে বাংলার বাঘ। অবশ্য যতদূর মনে পড়ে এদেশের মানুষ তাঁকে এই খেতাব দেননি। দিয়েছে বাইরের লোক। সে যাই হোক।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের প্রিয় মানুষ। তিনি অবশ্যই বাংলার রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাসভূমি সুন্দরবনের একটি পাতার গায়েও আগুনের আঁচ লাগতে দেবেন না। তিনি তাঁর দেশপ্রেম দিয়ে আমাদের ঐতিহ্য আমাদের সম্পদ রক্ষা করবেন।

আমাদের দেশে এখন প্রধান সক্রিয় বিরোধী দল নেই। এটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্যেও একটু  সমস্যার সৃষ্টি করেছে। একটি সুন্দর সার্বভৌম দেশের উপর বিভিন্ন রকম আগ্রাসনের সূচনা হতে পারে। এই সময় সমালোচনা এবং বিরোধিতার জন্য শক্তিশালি বিরোধিতা না করলে দেশের প্রধানের পক্ষে দেশের সব স্বার্থ একা রক্ষার দায়িত্ব পালন সম্ভব নাও হতে পারে। শক্তিশালী বিরোধী দল থাকলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হতো। প্রধানমন্ত্রী হয়তো চান একটি শক্তিশালি বিরোধীদল গড়ে উঠুক তাই তিনি হাস্য রসিকতা করে বলেছিলেন রামপালে এটা করতে না দিলে সবাইকে হ্যারিকেন জ্বালাতে হবে। বোঝা যাচ্ছে না কী করবো কিন্তু হ্যারিকেন না হয় আবার রেডি রাখবো কিন্তু সুন্দরবনের একটি পাতা যদি বিদ্যুতের বিনিময় মূল্যে ঝরে পড়ে তা তো মেনে নিতে পারবো না। ভবিষ্যতে আমরা থাকবো না বলে নিজেদের সব কিছু নষ্ট করার অধিকার আমাদের নেই।